ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৯ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

বাংলাদেশ থেকে ভারতের যা শেখার আছে

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৪

সাইনিং বিডি

বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি


ভারতের অর্থনীতি নিয়ে একের পর এক যেসব দুঃসংবাদ আসছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানলাম, বিশ্বের পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যেসব কোম্পানি চীনা শ্রমিকদের দিয়ে পোশাক তৈরি করাকে বেশি খরচসাপেক্ষ মনে করছে, তারা এখন চীন ছেড়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে চলে আসছে। এর মধ্য দিয়ে আরও একবার দেখা যাচ্ছে স্বল্প খরচে পণ্য উৎপাদন খাতে শ্রমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় ভারত অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, রপ্তানি খাতে দেশটির সাফল্য উল্লেখ করার মতো। অনেকের মতে, এই সাফল্য অলৌকিক ঘটনার মতো। অনেক খাতেই দেশটির অনেক অর্জন ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে সফলভাবে পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কার্যক্রম চলছে। লিঙ্গসমতার দিক থেকেও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।

সত্তরের দশকে আমি নিয়মিত বাংলাদেশে যেতাম। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় নদীমাতৃক দেশটির অধিকাংশ সেতু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পারাপারে ব্যবহার্য বেশির ভাগ নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছিল। তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের শোষক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেনাসদস্যদের মধ্যে যাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন, তাঁরা মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন এবং যাঁরা পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, তাঁরা সেখানে আটকা পড়েন। যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়েছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৪ সালে দেশটি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। ওই দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসাবে ২৭ হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যায়। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এরপর ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের প্রায় সব সদস্যসহ নিহত হওয়ার পর দেশটিতে পরপর অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান হয় এবং দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যায়।

এই বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশে দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের জন্মের প্রথম বছরেই ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শিক্ষা দিতে এই এনজিওটির জন্ম। বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্র্যাক প্রধান ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্র্যাক কাজ করছে। ৬৬ হাজার স্কুলের মাধ্যমে ব্র্যাক ১৮ লাখ শিশুকে শিক্ষা দিচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশটিতে প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক, যেটি নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক একটি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের শুরু হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, ১৯৯০ সালে আর্থিক দেউলিয়াত্বের একেবারে প্রান্তে চলে যাওয়ার ফলে দেশটির একদিক থেকে লাভই হয়েছিল, কারণ এই সংকট তাঁকে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওকে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে বিরোধীদের বাধা সামলাতে সহযোগিতা করেছিল।

    সব খবর