ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৭ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

ক্যামেরা দেখে টেবিলের নিচে মাথা ঢুকান সেই জি কে শামীম

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৩

সাইনিং বিডি

জি কে শামীম

জি কে শামীম

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শামীম ওরফে জি কে শামীমকে  আটক  করেছে র‌্যাব। 

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নিকেতনে শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ দেহরক্ষীসহ তাকে আটক করা হয়।

দেহরক্ষীদের মধ্যে প্রধান দেহরক্ষী শহীদুল মুরাদ কামাল ও জাহিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিকেতন ৪ নম্বর রোডের ১১৪ নম্বর ভবনে জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড শামীমের বাণিজ্যিক কার্যালয়। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

দুপুর ২টার দিকে ওই বাসায় ঢুকে প্রথমেই দেখা যায় বিশাল গ্যারেজ। গ্যারেজের পাশে কাঁচ দিয়ে ঘেরা একটি অফিস কক্ষ, এখানে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বসেন। ওই ঘরের পাশে দুটি দামি মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে। কক্ষের পাশে দুই পাল্লার একটি কাঠের দরজা। দরজার দামি কাঠের চৌকাঠ চোখে পড়ার মতো। 

দরজা দিয়ে ঢুকতেই ভেতরে তিন তলায় যাওয়ার সিঁড়ি। মার্বেল টাইলসের সিঁড়িটিতে রয়েছে নকশা করা কাঠের রেলিং। চারতলা পর্যন্ত উঠে গেছে সিঁড়িটি। পুরো বাসাটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। তৃতীয় তলায় শামীমের বসার কক্ষ। প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ২০ চওড়া কক্ষটি। পুরো কক্ষটিতে দামি বাতি, কাঠ দিয়ে সাজানো। বড় আকারের দুটি টিভি রয়েছে ঘরে। তিন সেট সোফা ও একটি বড় টেবিল রয়েছে। ওই টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাকার বান্ডিল, মদের বেশ কয়েকটি বোতল ও অস্ত্র। এগুলো ওই কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। ওই কক্ষের পাশেই আছে শামীমের ব্যক্তিগত কক্ষ।

তার কাছ থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রেটের (এফডিআর) কাগজপত্র পায় র‍্যাব। এরপর সাংবাদিকদের ওই নগদ টাকার বান্ডিল দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

অফিসে সাংবাদিক ও র‌্যাবকে ঢুকতে দেখে হতভম্ব হয়ে যান শামীম। র‌্যাব অভিযান পরিচালনার সময় ছবি তুলেন সাংবাদিকরা। 

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে  শামীম বলেন, আমার একটা সম্মান আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে ছবি তুইলেন না, আমাকে বেইজ্জতি কইরেন না। এখানে যা হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। কিন্তু আমাকেও আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না।’

শামীম ছবি তুলতে নিষেধ করলে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের স্বচ্ছতার জন্য মিডিয়া আমাদের সহযোগিতা করছে। আপনিও আমাদের সহযোগিতা করুন।  

অভিযানের পুরো সময়টুকু নিজেকে ক্যামেরা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন শামীম। কখনও দাঁড়িয়ে, চেয়ারে বসে, হাত দিয়ে মুখ ঢাকছিলেন তিনি। আবার এটা-ওটা খোঁজার জন্য দীর্ঘক্ষণ টেবিলের নিচে মাথা ঢুকিয়েও রাখেন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম থাকেন বনানীর ডিওএইচএসে। আর নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি তিনি তার জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন।

    সব খবর