ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৭ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

আলিফ লাইলা-৮: তোমার হলো শাড়ি, আমার হলো সাড়া

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৫১

সাইনিং বিডি

[পূর্বকথা: হিন্দুস্তানের বদমেজাজি বাদশাহ শাহরিয়ার তার এক বেগমের পরকীয়ার কারণে পুরো স্ত্রীজাতির উপর যারপরনাই নারাজ হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে প্রতি রাতে তিনি এক যুবতীকে নিকাহ-এ-মুতা করবেন এবং ভোর হলেই এক রাতের সেই বেগমকে কতল করাবেন। কয়েক বৎসর ধরে শত শত যুবতী কন্যা বেঘোরে ইন্তেকাল ফরমালো। বাদশার প্রধান উজিরের দুই কন্যা ছিল: শেহেরজাদি ও দিনারজাদি। ক্ষুরধার বুদ্ধিমতী শেহেরজাদি নারীজাতির প্রতি করুণাপরবশ হয়ে ছোটবোন দিনারজাদির সঙ্গে সল্লাপূর্বক স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিকাহ করেন বাদশা শাহরিয়ারকে। জীবনের আখেরি রাতে নববধূর আবদার রাখতে বাদশার আদেশে বাসরঘরে ডেকে আনা হয় শ্যালিকা দিনারজাদিকে। গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পনামাফিক দিনারজাদি বাংলাদেশের একেকটি সমস্যা নিয়ে সওয়াল পুছতে থাকেন আর শেহেরজাদিও কালবিলম্ব না সেই সব সওয়ালের জওয়াব দিতে শুরু করেন, কিন্তু ভোরের আজান শোনা মাত্র শেহেরজাদি কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং নকশি লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েন দুই বোন। প্রথম কয়েক রাতের বিষয়বস্তু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং। কিন্তু কথার পিঠে যেমন কথা আসে, তেমনি গত কয়েক রাত ধরে আলোচনা একটু ভিন্নপথে অগ্রসর হচ্ছে। বাদশার অবশ্য তাতে কোনো আপত্তি নেই। ধীরে ধীরে জ্ঞানপিপাসু হয়ে উঠছেন তিনি, শুনছেন মন দিয়ে দুই বোনের সওয়াল-জওয়াব, যার ফলে পর পর আট দিন ধরে বার বার শেহেরজাদির মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়েছে। আজ সেই সওয়াল-জওয়াবের অষ্টম রাত্রি]

প্রিয় দিদি শেহেরজাদি, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সরকারের এক মন্ত্রী সগর্বে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তরুণ সমাজের বখে যাওয়া রুখতে এবং উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠনের লক্ষ্যে সব পর্নোসাইট নাকি তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। সপ্তাহ কয়েক আগে বাংলাদেশের কোনো এক শহরে এক পুলিশ কর্মকর্তা নাপিতদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তরুণ খদ্দেরদের মাস্তান টাইপ চুলের কাট না দিতে। অন্য এক উপজেলায় এক ক্ষমতাবান ব্যক্তি স্কুলে ঢুকে বেশ কিছু ছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন। মনে পড়ছে, সত্তরের দশকে রক্ষীবাহিনী প্রথম এই কুন্তল-সংস্কারের অত্যাচার করে সবার বিরাগভাজন হয়েছিল। একাধিক সামরিক শাসনকালে রাস্তায় ধরে ধরে পুরুষের লম্বা চুলে কাঁচি চালানো হয়েছে, আলকাতরার পোঁচ পড়েছে শাড়িপরা নারীর পেটে। কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের এক ধর্মগুরু বলেছিলেন, মেয়েরা হচ্ছে তেঁতুল, কারণ তাদের দেখলেই নাকি জিভে জল আসে। অতি সম্প্রতি শাড়ি ও নারী শরীর নিয়ে এক নিবন্ধ লিখে সামাজিক গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এগুলো কি সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা, দিদি, নাকি কোনো বিশেষ মানসিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাঙালিরা এমনধারা আচরণ করে থাকে?

    সব খবর